নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কে অবরোধ করেন তাঁরা। এর আগে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমন হালদার নগরীর লালবাগ এলাকায় হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুমনকে লালবাগ এলাকা থেকে আটক করে ছুরির ভয় দেখিয়ে কারমাইকেল কলেজের দেয়ালসংলগ্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তাঁর টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধকারী শিক্ষার্থী তুহিন রানা বলেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী শহর থেকে ফেরার পথে লালবাগ এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছুরির ভয় দেখিয়ে তাঁকে কারমাইকেল কলেজের দেয়ালসংলগ্ন স্থানে নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, লালবাগ ও কেডিসি এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচল করতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুরের প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু মৌলিক দাবি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাম্পাসের মাঝখানে থাকা বড় এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেন তিনি।