কপালে বিশেষ যন্ত্র লাগিয়ে খেলছেন শুভমান গিল, কী এর কাজ?

স্পোর্টস ডেস্ক:

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলের কপালে সোনালি রঙের একটি ছোট যন্ত্র দেখা গেছে। শুধু অনুশীলন নয়, সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও যন্ত্রটি লাগিয়ে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করেছেন তিনি। বিষয়টি নজরে পড়ে প্রতিপক্ষ দলের পেসার কাইল জেমিসনেরও। তিনি গিলের কাছে গিয়ে যন্ত্রটি সম্পর্কে জানতে চান।

জানা গেছে, যন্ত্রটির নাম ‘টেম্পল’। এটি তৈরি করেছেন ভারতের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জোমাটোর সহপ্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল। প্রচলিত স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো হাতে পরতে হয় না এটি। কপালের কানের পাশের অংশে বিশেষ আঠাযুক্ত প্যাচের সাহায্যে যন্ত্রটি লাগানো হয়। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, শরীরচর্চা কিংবা খেলার সময়ও এটি যথাস্থানে থাকে।

টেম্পলের মূল প্রযুক্তির নাম ‘ব্রেনফ্লো’। এতে থাকা আলোকসংবেদী সেন্সরের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কাছাকাছি রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডের সময় মাথায় রক্ত সঞ্চালনের কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সে সম্পর্কে তথ্য দেয় যন্ত্রটি।

এ ছাড়া ‘এনট্রপি’ নামে একটি পরিমাপও পাওয়া যায় এতে। নির্মাতা দীপিন্দর গোয়েলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে শরীর কতটা চাপ বা শক্তি ব্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে এই পরিমাপ তৈরি করা হয়েছে।

শরীরচর্চা, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন গ্রহণ এমনকি ধ্যানের মতো বিষয়ও এই পরিমাপকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে একজন ক্রীড়াবিদ অনুশীলন বা প্রতিযোগিতার সময় শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে এবং বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো প্রভাব ফেলছে, তা বুঝতে যন্ত্রটির তথ্য কাজে লাগতে পারে।

তবে শুভমান গিল ঠিক কী কারণে এই যন্ত্র ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ভারতের আনুষ্ঠানিক ফিটনেস পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এর আগে ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টেম্পল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসরেও তাঁর কপালে ছিল যন্ত্রটি। সিন্ধু এনডিটিভিকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের প্রযুক্তির তথ্য থেকে শরীরের শক্তি সঞ্চয়, ঘুম এবং শারীরিক পুনরুদ্ধার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মতে, এসব বিষয় ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

যন্ত্রটির মাধ্যমে হৃদস্পন্দনের ওঠানামা ও পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *