আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও দলটির পরাজয় ঠেকাতে পারেননি বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এবার মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তাঁর ব্যবসা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে মাস্ক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত করতেও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন মাস্ক। ওই রাজ্যেই তাঁর ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোটগ্রহণের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুসারীদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাস্ক। তবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। এতে মাস্কের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের পর মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তদন্তের মুখে পড়তে পারে—এমন খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। ‘ক্যাপিটল এজেন্ডা: ডেমোক্র্যাটদের হাতুড়ি এবার ইলন মাস্কের দিকে’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘তলোয়ার দিয়ে যে বাঁচে, তলোয়ারেই তার মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও লেখেন, যারা তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে—আড়াল থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা তিনি খুঁজে বের করবেন। শুধু তাঁদের পুতুলদের নয়, মূল ব্যক্তিদেরও মোকাবিলা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন মাস্ক।
এদিকে নির্বাচনের পর প্রাক্-বাজার লেনদেনে মাস্কের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে মাস্কের ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের পরিকল্পিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগেও ইউক্রেনের সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা আরোপ, সরকারি দক্ষতা বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে কর্মী ছাঁটাই এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প, তাঁর পরিবার ও প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি তাঁদের আইনজীবী নিয়োগের পরামর্শ দেন। সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা এই কমিটির সাক্ষীদের তলব, সরকারি নথি চাওয়া এবং সমন জারির ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের নতুন তদন্ত কার্যক্রমে মাস্কের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্ব পেতে পারে।