বায়েজিদে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় জায়গা বিক্রির কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রবিউল হাসান (মিন্টু) ও নিশান বড়ুয়া নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রবিউল হাসান (মিন্টু) গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) নিশান বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বায়েজিদ ঝর্ণার দিঘীর পাড় এলাকার চাঁদনী সিনেমা হল মোড়ে ওয়ালটন শোরুমের পাশে একটি দোতলা ভবনে জায়গা বিক্রির কথা বলে ব্যবসায়ী গাজী মো. আইয়ুব খানকে নিয়ে যান তাঁর পূর্বপরিচিত দুই ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, ভবনটির নিচতলার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্তরা। এ সময় তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা ৭০ হাজার টাকা এবং নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখেন ওই ব্যবসায়ী। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে গত ১২ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় শহিদুল ইসলাম (সাহেদ), রবিউল হাসান (মিন্টু) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১০ জনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। টাকা লেনদেনসহ অন্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *